শনিবার ১৩ জুন ২০২৬
Online Edition

এসব হত্যার বিচার চাই

বাংলাদেশে এমন কিছু হত্যার ঘটনা ঘটেছে, যার বিচার চায় দেশের জনগণ। কিন্তু দীর্ঘদিন অতিবাহিত হওয়ার পরও গণআকাক্সক্ষা পূর্ণ হয়নি। প্রসঙ্গত এখানে সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি হত্যা ও ত্বকী হত্যার ঘটনা উল্লেখ করা যেতে পারে। নারায়ণগঞ্জের মেধাবী ছাত্র তানভীর মুহাম্মদ ত্বকীকে সাড়ে à§§à§§ বছর আগে নির্যাতন করে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছিল। পত্রিকান্তরে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয, র‌্যাবের তদন্তে ঘাতক ওসমান পরিবার চিহ্নিত হলেও গ্রেফতার করা হয়নি। সাড়ে ১০ বছরেও আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়নি। উল্টো ত্বকী হত্যার বিচার চাওয়ায় সংস্কৃতি কর্মীদের ওপর হামলা, মামলা ও নির্যাতন চালিয়েছে ওসমান পরিবার। গত শুক্রবার বিকেলে নগরের চাষাঢায় শহীদ মিনারে ‘ত্বকী হত্যা ও বিচারহীনতার সাড়ে à§§à§§ বছর’ উপলক্ষে আয়োজিত সমাবেশে বক্তারা এসব কথা বলেন। ত্বকী হত্যার সাড়ে à§§à§§ বছর উপলক্ষে তিনদিনের কর্মসূচির অংশ হিসেবে এই সমাবেশের আয়োজন করে সন্ত্রাস নির্মূল ত্বকী মঞ্চ।

ত্বকী মঞ্চের এই সমাবেশে বক্তারা বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মদদে ওসমান পরিবার নারায়ণগঞ্জে খুন, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিল। অবিলম্বে ত্বকী হত্যার নির্দেশদাতা শামীম ওসমান, তার ছেলে অয়ন ওসমান, ভাতিজা আজমেরী ওসমানসহ জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেফতার করে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান তারা। নিহত ত্বকীর বাবা সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রফিউর রাব্বি বলেন, গডফাদার মাফিয়া চক্র ওসমান পরিবারের মদদদাতা শক্তি হচ্ছে বিগত সরকারের প্রশাসন ও পুলিশ। তাদের পেছন থেকে যখন প্রশাসন ও পুলিশ সরে গেছে, তখন তারা পালিয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, ওসমান পরিবার বিগত ১৫ বছরে চাঁদাবাজি ও লুটপাট করেছে, ডজনের বেশি মানুষকে হত্যা করেছে। তাদের অপকর্মের কথা নারায়ণগঞ্জবাসী জানে, প্রশাসন জানে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও জানতেন। তারপও তারা ওসমান পরিবারকে পাহারা দিতেন।

নতুন বাংলাদেশে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছে মজলুম মানুষ বিচার চায়।  তারা ত্বকী হত্যার বিচার চান। বিচার চান সাগর-রুনিসহ অন্যান্য হত্যাকান্ডেরও। উল্লেখ্য যে, ২০১৩ সালের ৬ মার্চ নারায়ণগঞ্জের শায়েস্তা খান রোডের বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয় কিশোর তানভীর মুহাম্মদ ত্বকী। পরে à§® মার্চ শীতলক্ষ্যা নদীর কুমুদিনী শাখা খাল থেকে ত্বকীর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ত্বকীর এমন মৃত্যু তো কারো কাম্য ছিল না। ত্বকীর মা-বাবাসহ আপনজনরা এই নিষ্ঠুর হত্যকান্ডের ভার সইবেন কেমন করে? ত্বকীকে ফিরে পাওয়ার কোনো উপায় নেই। তবে ত্বকীর হত্যাকারীদের বিচার হলে এই সমাজে বসবাসের একটা অর্থ খুঁজে পাবেন তারা। এ জন্যই অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনার জন্য তারা লড়াই করে যাচ্ছেন সভা-সমাবেশ ও মিছিলের মাধ্যমে। এখানে কষ্টের বিষয় হলো, যাদের দুষ্টের দমন ও শিষ্টের পালনের কথা, ত্বকীর পরিবার তাদের পাশে পাননি। বরং তারা সঙ্গ দিয়েছেন অপরাধী ওসমান পরিবারকে। র‌্যাবের তদন্তে ঘাতক ওসমান পরিবার চিহ্নিত হলেও তাদের গ্রেফতার করা হয়নি। এমন ঘটনা আছে আরও বহু। ফ্যাসিবাদী সরকার এভাবেই অপরাধীদের প্রশ্রয় দিয়ে যায়। তবে এর ফলাফল ভালো হয় না, যেমন হয়নি শেখ হাসিনার।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ